জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে হবে অবশেষে জানা গেলো


 





বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনী প্রচারণা সাধারণত একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখেই পরিচালিত হয়ে এসেছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোট সেই প্রচলিত ধারা থেকে কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটছে। এই জোটে এখনো কোনো একক নেতৃত্ব বা ‘মুখ্য নেতা’কে সামনে রেখে প্রচারণা চালানো হয়নি, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের জন্য প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। প্রায় দুই হাজার প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন এবারের নির্বাচনে। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত দুটি বড় রাজনৈতিক জোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ—একদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট, অন্যদিকে জামায়াত ও তাদের সঙ্গে সমঝোতায় থাকা দলগুলো।


বিএনপি জোটে স্পষ্ট নেতৃত্ব রয়েছে এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সামনে রেখেই প্রচারণা চলছে। বিপরীতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে কোনো একক নেতা নেই। বরং জোটটি যৌথ নেতৃত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এই জোটে পাঁচটি ইসলামপন্থি এবং পাঁচটি ভিন্ন মতাদর্শের দল রয়েছে, যার ফলে আদর্শিক ঐক্য ও নেতৃত্বের প্রশ্ন সামনে এসেছে।


নির্বাচনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, কিংবা বিরোধী দলে গেলে কে বিরোধীদলীয় নেতা হবেন—এই প্রশ্নগুলোরও কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অনিশ্চয়তা ভোটের মাঠে জোটটির শক্তি নিয়ে সংশয় তৈরি করতে পারে।


তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, জোটের সবচেয়ে বড় শক্তি জামায়াতে ইসলামী। দলটি এককভাবে ২১৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, যা অন্য শরিকদের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে ঘোষণা না হলেও কার্যত জামায়াতই জোটের অঘোষিত নেতৃত্বে রয়েছে।


জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আসন সংখ্যার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জোটের শরিক দলগুলোর ভাষ্যেও স্পষ্ট, তারা বাস্তবতা মেনেই জামায়াতের প্রাধান্য স্বীকার করছে।




আদর্শিক দিক থেকে জোটটি ‘জুলাই স্পিরিট’, সংস্কার, বিচার ও আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থানকে ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে। তবে একক নেতৃত্ব ছাড়া এই জোট কতটা কার্যকরভাবে বিএনপির মোকাবিলা করতে পারবে, সেটিই এখন রাজনীতির বড় প্রশ্ন।




রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নেতৃত্বের এই অস্পষ্টতা একদিকে যেমন জোটের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষা করছে, অন্যদিকে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তিও তৈরি করতে পারে। কারণ বাংলাদেশের ভোটাররা ঐতিহ্যগতভাবে নেতৃত্বনির্ভর রাজনীতিতে অভ্যস্ত। ফলে কে সরকারপ্রধান হতে পারেন—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না থাকলে ভোটের আচরণে তার প্রভাব পড়তে পারে।





তবে জোটের শরিকদের দাবি, নেতৃত্বের প্রশ্ন নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায়বিচার এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই তাদের নির্বাচনী মূল বার্তা। তারা মনে করছে, ব্যক্তি নয়—নীতিই হবে এই জোটের মুখ্য পরিচয়। এখন দেখার বিষয়, এই নীতিনির্ভর রাজনীতি ভোটের মাঠে কতটা সাড়া ফেলতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বহীন এই ঐক্য কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url