নির্বাচনে ‘সহজ আসন’ কম, ৩১ কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, রয়েছে যেসব আসন


 



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তালিকা বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট হয়েছে, এবারের নির্বাচন কেবল বড় রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বহু আসনে একাধিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণে বহুপক্ষীয় লড়াই তৈরি হয়েছে। এতে ভোটের হিসাব-নিকাশ জটিল হয়ে উঠেছে এবং ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।


নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩১টি আসনে ১০ জন বা তার বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব আসনে ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী সংখ্যা যত বাড়ে, ‘সহজ জয়’-এর ধারণা ততটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে অল্প ভোট পেয়েও জয়ী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা দলীয় কৌশল, স্থানীয় প্রভাব ও ভোট ব্যবস্থাপনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।


ঢাকার কয়েকটি আসন এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৩ জন এবং খুলনা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৪ ও গাজীপুর-২ আসনে ১২ জন করে প্রার্থী প্রতিযোগিতায় আছেন। পাশাপাশি ঢাকা-৫, ঢাকা-৭, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭, নারায়ণগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ফেনী-২, নোয়াখালী-৫ ও খাগড়াছড়ি আসনে ১১ জন করে প্রার্থী থাকায় এসব আসনেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশঙ্কা রয়েছে।


 

আর‌ও পড়ুন: জামায়াত-এনসিপিকে সতর্ক করে ইসির চিঠি, যা জানা গেলো  


 

এবারের নির্বাচনে প্রভাবশালী ও পরিচিত নেতারাও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বেশি সংখ্যক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলে জয় নিশ্চিত থাকে না। অন্যদিকে, কিছু আসনে তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। পিরোজপুর-১ আসনে মাত্র দুজন প্রার্থী থাকায় এটিকে সবচেয়ে কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হিসেবে ধরা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও-১ ও জয়পুরহাট-২ আসনেও তিনজন করে প্রার্থী রয়েছেন।



মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর পাবনা-১ ও পাবনা-২ বাদে ২৯৮টি আসনে মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। আজ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url